অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিল পিডিএফ ও ওয়ার্ড ফাইল

ব্যবসায়ে চুক্তিপত্র দলিল

অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিল প্রস্তুত করা হয় মুলত একের অধিক ব্যবসায়ীগন একত্রে মিলে যখন কোন ব্যবসা শুরু করে। যাকে ইংরেজীতে পার্টনারশীপ বিজনেস বলা হয়।

অংশীদারগন চুক্তিপত্র প্রস্তুত করার পূর্বে একটি সভা করে এবং রেজ্যুলেশন তৈরি করে। যেখানে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়াদি নির্ধারন করে এবং সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত বিষয়াদি লিখিতভাবে একটি দলিলে সন্নিবেশিত করে। সেই দলিলটি অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিলটি আইন অনুযায়ী 4000/- টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখতে হবে এবং সরকারী জয়েন্ট স্টক থেকে দলিলটি রেজিষ্ট্রি করে নিতে হবে। অথবা রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে রেজিষ্ট্রি করা যেতে পারে। সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে সকল অংশীদার উপস্থিত হয়ে দলিলটি রেজিষ্ট্রি করে নিতে পারে। অংশীদারগন প্রয়োজনে রেজিষ্ট্রি না করে শুধুমাত্র নোটারী পাবলিক করে নিতে পারে।

এখানে অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিলের নমুনা দেয়া হলোঃ

বিসমিল্লাহি রাহমানির রাহিম

অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিল

অদ্য অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিল অদ্য ————- খ্রিঃ তারিখে সম্পাদিত হইয়াছে। যাহাতে নিম্ন লিখিত পক্ষগনের মধ্যে ….. (কোম্পানী/প্রতিষ্ঠানের নাম) নামের অংশীদারী কারবার প্রতিষ্ঠান পারষ্পারিক সম্মতির আলোকে সম্পর্ক নির্ধারণসহ যাবতীয় নিয়ম বিধি মোতাবেক অংশীদারী কারবার পরিচালনার সকল নীতিমালা বর্ণিত হইয়াছে। অত্র দলিলে পক্ষগনের নাম ও ঠিকানা যাহা নিম্নরূপঃ

ক্রঃ নং অংশীদারের নাম বর্তমান ঠিকানা স্থায়ী ঠিকানা
01
02
03

চুক্তিপত্রের শর্তাবলী

ব্যবসা পরিচালনার জন্য অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিল মোতাবেক পক্ষগনের সম্মতিক্রমে নিম্ন লিখিত শর্তাবলী অনুসরণ করা হইবেঃ
১) কোম্পানী/প্রতিষ্ঠানের নামঃ (……. কোম্পানী/প্রতিষ্ঠানের নাম) নামে কারবার পরিচিতি ও পরিচালিত হইবে।
২) প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাঃ ———- (ঠিকানা)
৩) কার্যারম্ভের তারিখঃ অত্র চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের দিন থেকে।
৪) মূলধন সরবরাহ ও লাভ লোকসানের অংশ বন্টন হিসাবঃ মোট ০৪ (চার) জন অংশীদারের মধ্যে নিম্নক্তো হারে মূলধন সরবরাহ ও চূড়ান্ত লাভ লোকসানের অংশ বন্টিত হইবে।

মূলধন সরবরাহ ও চূড়ান্ত লাভ লোকসান বন্টন তালিকা

ক্রমিক নং- অংশীদারগনের নাম মুলধন (শতকরা হার)
01 ২৫% অর্থাৎ
১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা।
02 ২৫% অর্থাৎ
১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা।
03 ২৫% অর্থাৎ
১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা।
04 ২৫% অর্থাৎ
১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা।

5) ব্যাংক হিসাব খোলা ও পরিচালনাঃ সকল অংশীদারের স্বাক্ষর দ্বারা ব্যাংক হিসাব খোলা বা পরিচালনা করা হইবে। বাংলাদেশের যেকোন সিডিউল ব্যাংক (চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী) এই হিসাব খোলা যাইবে।

৬) ব্যবস্থাপনাঃ — (নাম) কে অংশীদরের মধ্যে থেকে ব্যবস্থাপনা অংশীদার করা হল। তার মেয়াদকাল, নিযোগ অপসারণ, দায়িত্ব ও কর্তৃব্য অংশীদারগনের বাৎসরিক সভায় নির্ধারিত হইবে। তবে পরিবর্তন বা অপসারণের প্রয়োজন পড়িলে অংশীদারদের অনির্ধারিত সভার মাধ্যমে অথবা আলোচনার মাধ্যমে তা ব্যবস্থা করা যাইবে।

৭) ব্যবস্থাপনা অংশীদারের দায়িত্ব-কর্তব্য ও কার্য-পরিধিঃ
(১) ব্যবস্থাপনা অংশীদার কারখানা/ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করিবেন। তিনি বিভিন্ন সরকারী/বেসরকারী, ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সাথে বিভিন্ন কর্য ও চুক্তিপত্র সম্পাদন করিবেন।
(২) সকল ব্যাংকের সাথে লেনদেন পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা অংশীদার —(নাম) পরিচালনা করিবেন।

৮) বেতন-ভাতাঃ অংশীদারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নিয়োজিত অংশীদারগনকে প্রয়োজনে বেতন, ভাতা প্রদান করা যাইবে, যাহা অংশীদারদের বাৎসরিক সভার আলোচনার মাধ্যমৈ নির্ধারিত হবে এবং বাৎসরিক প্রয়োজনে যাতায়াত, আপ্যায়ন ইত্যাদি খাতে প্রকৃত ব্যয়ভারও প্রতিষ্ঠান বহন করিবে।

৯) অংশীদারগনের মাসিক বরাদ্দ ঃ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছলতা না আসা পর্যন্ত অংশীদারগনকে মাসিক বরাদ্দ প্রদান করা যাইবে না তবে মাসিক বরাদ্দের হার যাহা অংশীদারদের বাৎসরিক সভায় আলোচনার মাধমে নির্ধারিত হইবে।

ব্যবসায়ে চুক্তিপত্র দলিল

১০) হিসাব বর্ষ অনুসরণ ঃ প্রথম বর্ষের হিসাব কাল ৩০শে জুন, ২০১৬ইং বর্ণিত করা যাইবে। সেই হিসাবে ২য় বর্ষের হিসাব কাল ১লা জুলাই ২০১৬ইং থেকে ৩০শে জুন, ২০১৭ইং পর্যন্ত। কোন অবস্থাতেই ২য় বর্ষ থেকে হিসাব কালের তারিখ পরিবর্তন করা যাইবে না।

১১) প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিকাশ সংরক্ষণ ঃ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত অংশীদারগণ কারবারের দৈনন্দিন আয় ব্যয়ের হিসাব নিকাশ সংরক্ষণ করিবেন এবং হিসাব বৎসরান্তে আয় ব্যয়ের লাভ লোকসানের চূড়ান্ত হিসাব প্রণয়ন করিয়া অংশীদারগনের সভায় পরিদর্শনের জন্য সংরক্ষণ করিবেন।

১২) প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিকাশ যাচাই ঃ ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক সভার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিস্থিতি অংশীদারগণ জানিতে পারিবেন। হিসাব নিকাশের ব্যাপারে কোন অসঙ্গতি ধরা পড়িলে তা লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে পেশ করিবেন এবং অংশীদারগণ আলোচনার মাধ্যমে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

১৩) ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত অংশীদার তাঁর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অব্যহতি চাহিতে পারিবেন, এক্ষেত্রে তাকে ০৩ (তিন) মাস পূর্বে নোটিশের মাধ্যমে অন্য অংশীদারদের জানাইতে হইবে।

১৪) অংশীদারের উত্তরাধিকার বা নমিনি নির্ধারণ ঃ কোন কারনে কোন অংশীদারের মৃত্যু হইলে কোন অংশীদারের মস্তিস্ক বিকৃতি ঘটিলে অন্য কোন কারণে অথাৎ দেউলিয়া বা অযোগ্য হইলে নিয়ম অনুযায়ী ওয়ারিশগন তার উত্তরাধিকার বা নমিনি হইবে।

১৫) অংশীদারদের প্রতিনিধি ঃ অংশীদারগন লিখিতভাবে আবেদনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নিয়োগ করিতে পারিবেন। উক্ত প্রতিনিধি তার অধিকার সমুন্নত রাখিতে সব সময় বদ্ধপরিকর থাকিবে।

১৬) বিরোধ ঃ অংশীদারদের মধ্যে কখনো কোন বিরোধ/মতনৈক্য সৃষ্টি হইলে পারষ্পারিক আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা যাইবে। এতেও সমাধান/মিমাংসা না হইলে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানের জন্য সর্ব সম্মতিক্রমে শালিশদার নিয়োগ করা হইবে এবং শালিশদারগণ যে রায় প্রদান করিবেন, তাহা পক্ষগণ মানিয়া নিতে বাধ্য থাকিবেন।

১৭) অংশীদারগণের শেয়ার হস্তান্তর ঃ অংশীদারগণ পারষ্পারিক সহযোগীতা ও বিশ^স্ততায় ব্যবসা তদারকি করিবেন। ব্যবসা চলাকালিন সময়ে অংশীদারগণের যে কেউ তাহার অংশ বা শেয়ার বিক্রয় বা হস্তান্তর করিতে চাইলে যদি প্রতিষ্ঠানের সামর্থ থাকে অথবা অপর অংশীদারের সামর্থ থাকে তা ক্রয় করিবে। শেয়ার মূল্য নির্ধারিত হইবে প্রতিষ্ঠানের তাৎক্ষনিক পরিস্থিতির উপর অর্থাৎ বার্ষিক আয়-ব্যয় ও চূড়ান্ত রিপোর্ট এর উপর। প্রতিষ্ঠান বা অপর অংশীদার শেয়ার ক্রয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করিলে অংশীদারদের সম্মতিতে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রয় করিতে পারিবেন। এই দলিলের শর্তাবলীর অধীনেই শেয়ার বিক্রয়কারীকে অবশ্যই ০৩(তিন) মাস পূর্বে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করিতে হইবে।

১৮) শর্তাবলী পরিবতন ঃ অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিল এ উল্লেখিত নিয়মাবলী ধারা আলোচনার মাধ্যমে অংশীদারগণ পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করিতে পারিবেন। কোন নিয়মের বা ধারার কোন অসম্মতি দেখা দিলে সর্ব সম্মতিক্রমে আইনগত পরিবর্তন করা যাইবে। শর্তে অনুল্লেখিত কোন সমস্যা দেখা দিলে তাহা উভয়ের সম্মতিক্রমে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহনার্থে চুক্তিপত্রে সংযোজন করা যাইবে।

আমরা অত্র অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিল এর উপরোক্ত শর্তাবলী পড়িলাম এবং স্বীকার করিয়া, বুঝিয়া, শুনিয়া এবং উহার মর্ম উপলব্ধি করিয়া স্বজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় সুস্থ্য মস্তিস্কে কাহারও বিনা প্ররোচনায় নিম্নোক্ত স্বাক্ষীগণের সম্মূখে অত্র চুক্তিপত্র অদ্য ৩০/১২/২০১৫ইং তারিখে রোজ বুধবার স্বাক্ষর প্রদান করিলাম।

দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্র পিডিএফ ও ওয়ার্ড ফাইল

স্বাক্ষর প্রদানের নমুনা

অংশীদারগনের নাম অংশীদারগনের স্বাক্ষর

স্বাক্ষীগনের স্বাক্ষরঃ

1।

2।

3।

অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিল এর পিডিএফ এবং ওয়ার্ড ফাইল

উক্ত অংশীদারী চুক্তিপত্র দলিলে কোন ভুল/ত্রুটি সংযোজন বা সংশোধন থাকলে অনুগ্রহ পূর্বক কমেন্ট বক্সে মন্তব্য করে জানাবেন।

লেখক: আইনজীবী মোঃ জুবায়ের আশিক, সুপ্রিম কোর্ট, বাংলাদেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*